“আমি ঘুমিয়েছি এবং স্বপ্ন দেখেছিলাম যে জীবনটি আনন্দময়। আমি জেগে উঠলাম এবং দেখলাম জীবনই ছিল সেবা। আমি অভিনয় করেছি এবং দেখেছি, সেবাটি ছিল আনন্দের। “—-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বৈশাখী দাস : আজ আমরা জানবো এমন এক সম্মানীয় ব্যক্তির সম্পর্কে, যিনি সবসময় সাধারণ দুঃস্থ মানুষের পাশে সর্বদা দাঁড়িয়েছেন।তার নাম হলো অসীম পাল।সকল সাধারণ এবং অসহায় মানুষদের কাছে তিনি এক ঐশ্বরীক আশীর্বাদের হাত।এবং সকলের প্রিয় অসীম দা নামে পরিচিত।এক উদার মনের মানুষ এবং দয়াশীল সমাজসেবক হিসাবে তার নাম বেশ খ্যাত।


সালটা ছিল ২০১০। সম্ভবত ২৫-২৬ শে সেপ্টেম্বর তার এই দানশীল কর্মকান্ডের শুভ যাত্রার শুভারম্ভ হয়।তিনি এবং তার সহযোগীরা ‘পরিবর্তন’ নামক একটি সেবা কেন্দ্র গড়ে তোলেন।কেটে গেছে বেশ কিছু বছর। কিন্তু তার এই কর্মকান্ড বিরত থাকে নি। সময়ের সাথে সাথে তিনি এবং তার সহযোগীরা তার সাথে সমান তালে হাতে হাত রেখে সাধারণ দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং তাঁদের সাধ্য মতো সাহায্যে করে গেছেন।পাশাপাশি প্রচুর সামাজিক কর্মকান্ড তারা করে গেছেন। এমনকি সমগ্র বিশ্ব জুড়ে করোনা-র মতো এক মারণরোগী ভাইরাসের ফলে যে মানুষের মনে ভয়াবহতা-র সৃষ্টি হয়েছে, সেই সময় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সকল রকম সাহায্য করে গেছেন।


যেই বছর এই ব্যবস্থা প্রথম শুরু হয়,প্রায় দুদিন ব্যাপী ধরে বারাসাত অঞ্চলে সুভাষ নামক ময়দানে, সেখানে প্রথম দিন সকাল বেলায় “যুদ্ধ নয়,শান্তি চাই” নামক একটি পদযাত্রা হয় । তারপরে চক্ষুদান অনুষ্ঠান,দুঃস্থ ছাত্র -ছাত্রীদের নতুন পোশাক বিতরণ অনুষ্ঠান, আন্তর্জাতিক মানের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান,সারা বাংলা অঙ্কন প্রতিযোগিতা,সাধারণ -দুঃস্থ মানুষদের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠান।এর পর দিনই ছিল প্রতিদ্বন্দ্বীদের হুইলচেয়ার প্রদান।এবং ওষুধ বিতরণ।তার পরের দিন ছিল এক বড়ো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

সেই বছরেই ১৩ ই সেপ্টেম্বর ছিল সকল শিক্ষকদের উদ্দেশ্য এক বিরাট অনুষ্ঠান।সেখানে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। এইরূপ নানান কর্মকান্ড তারা করেছেন এবং আগামী দিন আরো এইরকম কর্মকান্ডের মাধ্যমে সাধারণ -দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াবেন,এইভাবেই সর্বদা সাধারণ মানুষকে সাহায্য করে যাবেন এইরকমই তারা আস্থা দিচ্ছেন সাধারণ মানুষদের।


আজ শুভ পঞ্চমী। প্রতি বছরের মতো এই বছরও এই সেবাকেন্দ্রটি নিজেদের সাধ্য মতো সকল সাধারণ মানুষদের উদ্দেশ্যে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষদের কাছে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।আজ এই শুভ দিনে পুজো উপলক্ষে দুঃস্থ শিশু এবং সাধারণ মানুষদের বস্ত্র বিতরণ করলেন তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here