রায় ঘোষণার আগেই “জাস্টিস ফর রজত” পোস্টারে ছেয়ে গেল বারাসত আদালত চত্বর।আদালতে প্রবেশের মূল গেট থেকে শুরু করে আইনজীবীদের সেরেস্তার দেওয়াল ছেয়ে গেছে পোস্টারে।এছাড়া আদালত চত্বরে অভিযান ওয়েলফেয়ার এন্ড চ্যারিটেবল ট্রাস্ট নামে একটি সামাজিক সংগঠনের তরফে রজত খুনে দোষী অনিন্দিতা পাল(দে)-এর ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ দেখানো হয়।চলে প্লাকার্ড হাতে স্লোগানও।আন্দোলন কারীদের দাবি,সমাজে পুরুষরা বারবার নারীদের হাতে অত্যাচারিত হচ্ছে।কখনও আবার হত্যা করা হচ্ছে তাঁদের।তাই নারী বলে সাত খুন মাফ এমনটা যেন না হয়।আমরা রজতের খুনে অনিন্দিতার সর্বোচ্চ সাজা ফাঁসি চাই।তবেই সমাজ থেকে এই ধরনের ঘটনা কমানো সম্ভব।নইলে বাড়তে পারে এই ধরনের ঘটনা”।

প্রসঙ্গত,আইনজীবী রজত দে খুনে সোমবারই তার আইনজীবী স্ত্রী অনিন্দিতা পাল(দে)-কে দোষী সাব্যস্ত করা হয় বারাসত আদালতে।বুধবার আদালতের ফাস্ট ট্রাক থার্ড কোর্টের বিচারক সুজিত কুমার ঝা এই খুনের মামলায় সাজা ঘোষণা করবেন।তার আগেই পোস্টার ও প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভে উত্তাল হল আদালত চত্বর।

২০১৮ সালের ২৫ নভেম্বর নিউটাউনের DB ব্লকের ফ্লাট থেকে নিথর দেহ উদ্ধার হয় কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী রজত দে-র।প্রথম থেকেই এই মৃত্যু নিয়ে রহস্য দানা বাঁধে মৃতের পরিবার ও আইনজীবী বন্ধুদের মধ্যে।তাঁরা খুনের অভিযোগে সরব হন।যদিও দেহ উদ্ধারের পর রজতের আইনজীবী স্ত্রী দাবি করেন এটি আত্মহত্যার ঘটনা।এরপর,মৃতের বাবা সমীর দে-র অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অনিন্দিতাকে গ্রেপ্তার করে।পুলিশি জেরায় শেষ পর্যন্ত খুনের কথা কবুল করে সে।তদন্তে নেমে পুলিশের হাতে উঠে আসে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।ধৃত অনিন্দিতার হোয়াটসঅ্যাপ
গুগল সার্চ করে বিয়ে নিয়ে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে আসে পুলিশের।

তদন্তকারী অফিসারেরা জানতে পারেন,রজতের সঙ্গে দাম্পত্য কলহ চলছিল অনিন্দিতার।বিয়েতে অখুশি ছিল সে।রজতের কাছ থেকে ডিভোর্স চাইছিল অনিন্দিতা।কিন্তু ছেলের কথা ভেবে তাতে রাজি ছিল না রজত।বিয়ের বিষয়ে নিজের হোয়াটসঅ্যাপে বেশকিছু বিদ্বেষমূলক মন্তব্যও করেছিল অনিন্দিতা।সেসব তথ্য এই খুনের মামলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে জানা গেছে আদালত সূত্রে।

এছাড়া ইলেকট্রনিক্স এভিডেন্স পারিপার্শ্বিক তথ্য প্রমানও গুরুত্বপূর্ণ দিক এই মামলার ক্ষেত্রে।এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের উপর ভিত্তি করেই স্বামী খুনে দোষী অনিন্দিতাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে বারাসত আদালত।গ্রেপ্তার হওয়ার একবছর নয় মাস ষোলো দিনের মাথায় খুনের মামলায় সাজা ঘোষণা করতে চলেছে ফাস্ট ট্রাক থার্ড কোর্টের বিচারক।এখন কি সাজা হয় সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।

ভাব লেশ হীন ভাবে কোর্ট লক আপে ঢুকলেন অনিন্দিতা। নীল চুড়িদার পরিহিতা অনিন্দিতা কোর্ট লক ঢোকার সময় ছিলেন নির্বাক

সকাল থেকেই আদালত চত্বরে ভিড় উৎসুক মানুষের।সকলেই তাকিয়ে আছেন বহু চর্চিত এই রায়ের দিকে।আদালতে সকালেই চলে আসেন মৃত রজতের বাবা সমীর দে ও তাঁর আইনজীবী বন্ধুরা।তাঁরা আগেই অনিন্দিতার ফাঁসির দাবিতে সরব হয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here