নিজস্ব সংবাদাতা : আদালতের রায়ে এবছর দীপাবলিতে বাজি নিষিদ্ধ। বাজি বিক্রি যাতে না হয় তার জন্য পুলিশকে নজর রাখতে নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালতের ডিভিশান বেঞ্চ। আর এই রায়ের পরেই চম্পাহাটির বাজি বাজারে হানা দিল পুলিশ।

একেই বুধবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর থানার চম্পাহাটির হারাল বাজি বাজারে বাজি বিস্ফোরণের ঘটনার পরে এদিন বন্ধ ছিল হারালের বাজি বাজার। অন্যান্য বছর এই সময় জমজমাট থাকে এই বাজি বাজার। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে এবার ক্রেতার সংখ্যা খবুই কম ছিল।

তার ওপর বুধবার বিষ্ফোরনের ঘটনার পরে এদিন এক প্রকার শ্মশানের নিস্তবদ্ধা ছিল বাজি বাজারে।এদিকে আদালতের রায় ঘোষনার সঙ্গে সঙ্গেই এখানে বাড়ানো হয়েছে পুলিশি তৎপরতা। বারুইপুর থানা থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী বৃহস্পতিবার দুপুরে চাম্পাহাটির বাজি বাজারে গিয়ে বাজির দোকান ও কারখানা যাতে আর না খোলা হয় তার জন্য বাজি ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে।

পাশাপাশি এলাকায় মোতায়েন করা হয় পুলিশ। শুধু তাই নয়, বুধবার ওই বাজারে বাজি বিষ্ফোরনের ফলে কয়েকটি দোকান ও বাড়ি ভষ্মীভূত হয়। সেই কারনে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে ২৪ ঘন্টার জন্য ওই বাজারে মোতায়েন করা হয়েছে দমকল।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে আগামী ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত দমকলের একটি ইঞ্জিন এই বাজারে রাখা থাকবে।

যদি বাজি বাজারে আবার কোথাও বিষ্ফোরন ঘটে সেখানে সঙ্গে সঙ্গেই কাজ শুরু করতে পারবে দমকল বাহিনি। এদিকে বৃহস্পতিবার বিকালে হাইকোর্টের বাজি নিষিদ্ধ ঘোষনার রায় জানার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন হারালের বাজি ব্যবসায়ী মহল। প্রতিবাদে তারা আন্দোলনে নামবেন বলে জানান।

আত্মহত্যার পথও তারা বেছে নিতে পারেন বলে হুমকি দিয়েছেন। চাম্পাহাটি হারাল বাজি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ভানু মণ্ডল জানান, একেই এবছর করোনার কারনে বাজি ব্যবসায়ীরা লোকসানে চলছেন। তারপরেও দীপাবলিতে দুটো আয়ের আশায় তারা ধার দেনা করেও বাজি মজুত করেছিল।

এখন সেই বাজি বিক্রি করতে না পারলে তাদের সর্বনাশ হবে।তাই এই রায়ের বিরুদ্ধে এবং তাদের প্রতি সুবিচারের আশায় এদিন থেকেই চিনের মোড়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য পথ অবরোধ শুরু করা হচ্ছে। এদিকে; বারুইপুর সোনারপুর ও ক্যানিং এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে পুলিস আড়াই লক্ষ টাকার নিসিদ্ধ বাজি উদ্ধার করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here