1863 সালের 12 জানুয়ারি (1629 সালের 29 পৌষ ) কলকাতার এক উচ্চবিত্ত হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন স্বামী বিবেকানন্দ,

যিনি স্বামীজি নামেও খ্যাত |

উত্তর কলকাতার সিমলা অঞ্চলের 3নম্বর গৌরমোহন মুখোপাধ্যায় স্ট্রিটে জন্ম নিয়েছিলেন তিনি| তাঁর প্রকৃত নাম নরেন্দ্রনাথ দত্ত|ডাক নাম ছিল বীরেশ্বর বা বিলে বা নরেন |

ছোটবেলা থেকে তিনি যেমন ছিলেন খুব ডানপিটে তেমনই আধ্যাত্মিকতার ওপর আকর্ষণ ছিলো তাঁর| স্বামীজি  ছিলেন একজন হিন্দু সন্ন্যাসী, দার্শনিক, লেখক, সঙ্গীতজ্ঞ| তাঁর পিতা ছিলেন কলকাতার উচ্চ আদালতের একজন বিখ্যাত আইনজীবি শ্রী বিশ্বনাথ দত্ত এবং মাতা ছিলেন শ্রীমতি ভুবনেশ্বরী দেবী|

1871 খ্রিস্টাব্দে, নরেন্দ্রনাথ বিদ্যাসাগরের মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশনে ভর্তি হয়েছিলেন শিক্ষার্থে| নরেন্দ্রনাথ প্রেসিডেন্সি কলেজের প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হওয়া একমাত্র ছাত্র ছিলেন| তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী এবং কুসংস্কার এ ঘোর অবিশ্বাশী এক ব্যক্তি| তিনি বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজে অংশ নিতেন|

 স্বামীজি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ও ইউরোপে হিন্দু ধর্ম, ভারতীয় যোগ দর্শন প্রচার করেছিলেন এবং হিন্দু ধৰ্মকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান ধৰ্ম হিসাবে স্থাপন করেছেন|

তিনি ব্রিটিশ ভারতে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের ধারণা প্রবর্তন করেন| নভেম্বর মাসে সুরেন মিত্রের বাড়িতে তাঁর প্রথম সাক্ষাৎ হয় শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের সাথে যিনি ধীরে ধীরে স্বামীজীর গুরু হয়ে ওঠেন|

তিনি রামকৃষ্ণ দেবের কাছেই শিখেছেন – জীব সেবা করলেই ঈশ্বরের সেবা করা হয়|

রামকৃষ্ণ দেবের মৃত্যুর পরে তিনি ভারত পরিক্রমা শুরু করেন|

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড ও ইউরোপে তিনি হিন্দু দর্শন প্রচার করেন| তাঁর রচিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো – চিকাগো বক্তৃতা, কর্মযোগ, জ্ঞানযোগ, রাজযোগ, হারভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় এ বেদান্ত, ভারতে বিবেকানন্দ, বর্তমান ভারত, ভাববার কথা, বীরবাণী, পরিব্রাজক, প্রাচ্য, ও পাশ্চাত্য, মদীয় আচার্যবাদ ইত্যাদি|

তিনি ছিলেন বিশিষ্ট সঙ্গীতজ্ঞ ও গায়ক| তাঁর রচিত বিখ্যাত দুটি গান হলো -“নাহি সূর্য নাহি জ্যোতি “ও “খণ্ডন -ভব -বন্ধন “|এছাড়াও তাঁর রচিত ” 4জুলাই এর প্রতি”, “নাচুক তাহাতে শ্যামা “,”সখার প্রতি”, “সন্ন্যাসীর গীতি” কয়েকটি বিখ্যাত কবিতা|

স্বামীজি 1897 সালের 1 মে ধৰ্মপ্রচার ও সামাজিক কার্যের জন্য ‘রামকৃষ্ণ মঠ ‘ এবং ‘রামকৃষ্ণ মিশন ‘ প্রতিষ্ঠা করেন| এছাড়াও তিনি অদ্বৈত আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন|

তিনিই বলেছেন -” ওঠো জাগো, লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত থেমো না “|

ভারতে বিবেকানন্দ কে “বীর সন্ন্যাসী ” বলে অভিহিত করা হয়| তাঁর জন্মদিবস ভারতে জাতীয় যুব দিবস হিসাবে পালিত হয়| তিনি 1902 খ্রিস্টাব্দের 4 জুলাই বেলুড়মঠে ধ্যানরত অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন| তাঁর শিষ্যরা মনে করেন তাঁর মহাসমাধি ঘটেছিলো| স্বামীজি চল্লিশ বছর জীবনকাল এর মধ্যেই তাঁর মাহাত্ম ছড়িয়ে দিয়েছেন গোটা পৃথিবীতে|

 

আজ তাঁর 158 তম জন্মদিবস| এই দিনটি সকলের কাছেই খুব প্ৰিয়|আজ সবজায়গায় দেশে বিদেশে স্বামীজিকে সম্মান প্রদান করা হয়ে থাকে| বেলুড় মঠে আয়োজিত হয় বিশেষ অনুষ্ঠান|

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here